ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এন্টিবায়োটিক সম্পর্কে জানুন, না হলে মৃত্যু অবধারিত

স্বাস্থ্য ডেস্ক
এন্টিবায়োটিক সম্পর্কে জানুন, না হলে মৃত্যু অবধারিত
সংগৃহীত : ছবি
Advertisement (Adsense)

আমরা যখন অসুখে ভুগি তখন সাময়িক ভাবে সুস্থতার জন্য অল্পতেই এন্টিবায়োটিক ওষুধ খেয়ে থাকি। আবার বেশিরভাগ সময়ই এন্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ করি না।

এন্টিবায়োটিক সম্পর্কে জানুন...

এর ফলে কিছু মাস পর একই রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। এসব ওষুধ আমরা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই সেবন করে থাকি। আসলে আমরা জানি না যে নিজের অজান্তেই আমরা কত বড় ভুল করছি! এ বিষয়ে বিখ্যাত ডা. জন জর্ডি বলেন, সাধারণ মানুষ মনে করে সুস্থতা ডাক্তার, ড্রাগস্টোর বা হাসপাতালে রয়েছে। তারা মনে করে ডাক্তার ট্যাবলেট, ক্যাপসুল বা ইনজেকশন দিয়ে ভালো করে দেবেন। সুস্থতা আমাদের নিজের ভেতরেই রয়েছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, শতকরা ৭৫ ভাগ রোগের কারণই হচ্ছে মানসিক। অর্থাৎ কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে আপনার মানসিক প্রতিক্রিয়াই ৭৫ ভাগ রোগ সৃষ্টির কারণ। শতকরা ২৫ ভাগ রোগের কারণ হচ্ছে ইনফেকশন, ভাইরাস আক্রমণ, ভুল খাদ্য গ্রহণ ও ব্যায়াম না করা। তাই শতকরা ৭৫ ভাগ রোগই শুধুমাত্র দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে সুস্থা আনা যায়।

এখন আসুন জেনে নিই এন্টিবায়োটিক কী?

এন্টিবায়োটিক সেই সব ওষুধ যা ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা পরজীবী ধ্বংস করে। ব্যাকটেরিয়া জনিত বিভিন্ন রোগে এন্টিবায়োটিক একটি বহুল ব্যবহৃত সফল ওষুধ। এই এন্টিবায়োটিক যদি আমরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সেবন করি বা রোগের সামান্য উপশমের দেখা দিলেই ব্যবহার করি তাহলে এন্টিবায়োটিকের রেজিস্ট্যান্স নষ্ট হয়ে যায়।

এখানে রেজিস্ট্যান্স বলতে বোঝায় এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাওয়া অর্থাৎ যদি এমন কোনো ওষুধের বিরুদ্ধে জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে যার প্রতি এক সময় জীবাণুটি সংবেদনশীল ছিল। কিন্তু ওই জীবাণুর বিপক্ষে এটি এখন আর কাজ করতে পারছে না। জীবানুর যে অবস্থায় এন্টিবায়োটিকে কোনো কাজ হয়না সে অবস্থাকে বলা হয় এস্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্ট। যদি কোনো জীবাণু এস্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্ট হয়ে যায়, তখন তাকে সহজ ভাষায় বলা যায় ড্রাগ রেজিস্টেন্ট হয়ে যাওয়া। মানে হচ্ছে, তখন সেই জীবাণুর ওপর সাধারণ কোনো ওষুধ কাজ করতে পারবে না।

এখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসবে কেন রেজিস্ট্রেট হয়ে যায়? এটি এন্টিবায়োটিক আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে বিভিন্ন জীবাণু বা ভাইরাস তার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে। মানে জীবাণুগুলো এন্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ফলে তারা সাময়িক ভাবে তাদের কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং আমাদের দেহে প্রবেশ করা এন্টিবায়োটিকের সঙ্গে এক প্রকার যুদ্ধে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে আমাদের শরীর সুস্থ হতে শুরু করে। কিন্তু জীবাণু বা ভাইরাস কিন্তু তখনো আমাদের শরীরে থেকে যায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায়।

এখন আমরা যদি ওই অবস্থায় এন্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করে দেই তাহলে জীবাণুগুলো পুনরায় আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে এবং আবার রোগ সৃষ্টি করে। এখন কথা হচ্ছে আবার যদি আমরা সেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করে দেই তাহলে কী হবে? কিন্তু সমস্যা হলো এখন যদি আবার ওই এন্টিবায়োটিক খাওয়া হয় তাহলে কিন্তু তা আর কাজ করবেনা। কারণ জীবাণুগুলো প্রথম থেকেই এন্টিবায়টিক এর বিপরীতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল তাই তখন আর ওই গ্রুপের এন্টিবায়োটিকে কাজ হবে না। এমনকি ওই এন্টিবায়োটিক আপনার শরীরে আর কোনোদিন কাজ করবেনা।

তাই আমাদের করণীয় হলো যখনই এন্টিবায়োটিক দেওয়া হবে, অবশ্যই পুরো কোর্সটি সম্পন্ন করতে হবে। শুধুমাত্র ড্রাগ রেজিস্ট্রেট নয় এ ছাড়াও আরো কিছু ক্ষতি হবে আমাদের দেহে। যেমন সাধারণভাবে ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক এদের ওপর আর কাজ করবেনা। তাই নতুন ড্রাগ তৈরী করতে হবে যা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এটি ব্যয়বহুল এবং জটিল, অনেকক্ষেত্রে সাধারণের হাতের নাগালের বাইরে থাকে এসব নতুন এন্টিবায়োটিক। হোস্টদেরও বেশ কিছু ক্ষতি হয়ে যায় যেমন চিকিৎসা ফলপ্রসূ হয় না, রোগী দীর্ঘদিন যাবত সংক্রমিত থাকতে হয়, অন্যকে সহজে সংক্রমিত করতে পারে। এর ফলে বড় বড় সার্জারি, অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট যা এখন অনায়াসে হচ্ছে, সেগুলো হয়ে যাবে জটিল ও খুঁকিপূর্ণ।

এখন স্বাভাবিক ভাবে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে একজন মানুষের শরীরের জীবাণুতে যে পরিবর্তন আসে, একটা আমাদের দেহের সকল জীবাণুতেই কী সেই পরিবর্তন আসবে? এলেও তা কীভাবে? এর উত্তর হচ্ছে, সেই পরিবর্তনটি এলেই হবে। কেননা যে জীবাণু নিজের জেনেটিক কোডে পরিবর্তন এনে রেজিস্ট্যান্ট হয়, সেই জীবাণু বিভিন্নভাবে অন্য জীবাণুর মাঝে এই জেনেটিক কোড ছড়িয়ে দিতে পারে অথবা একটি একটা জেনেটিক কোড ছড়িয়ে দিতে পারে পরিবেশে, পরবর্তী সময়ে পরিবেশের অন্যান্য জীবাণু সেই কোড গ্রহণ করে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যেতে পারে।

এখন আসুন জেনে নিই এমনত অবস্থায় আমাদের করনীয় কি? WHO-এর মতে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রে উল্লিখিত ডোজ ও সময় অনুসারে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। ডাক্তারের কাছ থেকে জানতে হবে কোন এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়েছে কোন রোগের জন্য।

সর্দি-কাশি এবং অধিকাংশ ডায়রিয়ার চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না, এর জন্য তরল পানীয় ও বিশ্রামই যথেষ্ট। এন্টিবায়োটিক শুধু খারাপ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে না সঙ্গে কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই যথা সম্ভব কম পরিমানে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। এবং সব থেকে প্রয়োজনীয় ও উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে অবশ্যই ডাক্তারের দেয়া সম্পূর্ণ কোর্সটি শেষ করতে হবে। তার চেয়ে বড় কথা; ওষুধের থেকে খাদ্যাভ্যাস বা জীবনাচার পরিবর্তন আপনাকে সুস্থ করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন

Advertisement (Adsense)